গরমের ছুটি

তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস! পড়ুয়াদের সুরক্ষায় ২৭ এপ্রিল থেকেই টানা গরমের ছুটি ঘোষণা, বড় নির্দেশিকা জারি সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদন (জাতীয় ডেস্ক):
বৈশাখ মাস পড়তেই রোদের তেজ আর ভ্যাপসা গরমে রীতিমতো নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। সকাল আটটা বাজতে না বাজতেই যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। দিনের পর দিন তাপমাত্রার পারদ শুধু ওপরের দিকেই উঠছে, দেশের একাধিক প্রান্তে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি পার করে ফেলেছে। এই চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হচ্ছে ছোট ছোট স্কুলপড়ুয়ারা। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এবার পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই টানা গরমের ছুটি ঘোষণা করে দিল রাজ্য সরকার। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

আগেভাগেই গ্রীষ্মকালীন ছুটির ঘোষণা
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের জেরে স্কুলপড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এই বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে ওড়িশা সরকার। ওড়িশার স্কুল ও গণশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে গরমের ছুটি এগিয়ে আনার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। সরকারের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বা সামার ভ্যাকেশন শুরু হয়ে যাচ্ছে।

কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?
সাধারণত মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি শুরু হয়। কিন্তু এবছর আবহাওয়ার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপপ্রবাহ চরম আকার ধারণ করেছে। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ওড়িশার অন্তত ২৪টি জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে এই পারদ আরও চড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। এই কাঠফাটা গরমে স্কুলে যাতায়াত করলে ছাত্রছাত্রীদের হিটস্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিপদের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী এই আগাম ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পরীক্ষা ও অন্যান্য কাজে ছাড়
স্কুলগুলিতে পঠনপাঠনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হলেও, বেশ কিছু জরুরি ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, স্কুল ছুটি থাকলেও আগে থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি নির্দিষ্ট সূচি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচন, জনগণনা বা আদমশুমারির কাজ এবং স্কুলের অন্যান্য প্রশাসনিক কাজকর্ম আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জন্য আলাদা নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

বন্ধ হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিও, তবে মিলবে পুষ্টি
শুধুমাত্র স্কুল নয়, ছোট শিশুদের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি নিয়েও বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ওড়িশা প্রশাসন। রাজ্যের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ চন্দ্র পূজারী জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কথা বিবেচনা করে খুব তাড়াতাড়ি সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকেও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকলেও শিশুদের পুষ্টি যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাধ্যমে শিশুদের জন্য বরাদ্দ পুষ্টিকর খাবার এবং শুকনো রেশন সরাসরি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

অন্যান্য রাজ্যের পরিস্থিতি কী?
ওড়িশা সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর অন্যান্য রাজ্যগুলির ওপরেও চাপ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক প্রতিবেশী রাজ্যেও গরমের দাপট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই রাজ্যগুলির অভিভাবক মহল থেকেও স্কুলগুলিতে দ্রুত গরমের ছুটি এগিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

উপসংহার:
আবহাওয়া যে চরম আকার নিয়েছে, তাতে সরকারের এই আগাম ছুটির সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। অভিভাবকদের এখন উচিত ছুটির দিনগুলোতে শিশুদের যতটা সম্ভব বাড়ির ভেতরে রাখা এবং প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খাওয়ানো। এখন দেখার বিষয়, ওড়িশার পথ অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিও কবে এই আগাম ছুটির পথে হাঁটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top