নিজস্ব প্রতিবেদন:
টেলিকম দুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা BSNL (Bharat Sanchar Nigam Limited)। সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট টেলিকম সংস্থাগুলি যেমন রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio), ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel) এবং ভোডাফোন আইডিয়া (Vi) তাদের রিচার্জ প্ল্যানের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেটে যখন টান পড়ছে, ঠিক সেই সুযোগটাকেই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে বিএসএনএল। গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে একেবারে জলের দরে একাধিক আকর্ষণীয় রিচার্জ প্ল্যান নিয়ে হাজির হয়েছে এই সরকারি টেলিকম সংস্থাটি। শুধু সস্তা প্ল্যানই নয়, দেশজুড়ে দ্রুতগতির 4G এবং 5G নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে তারা।
প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর রিচার্জের দাম বাড়ার পর থেকে প্রতিদিনই লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের পুরনো নম্বর পোর্ট করে BSNL-এ চলে আসছেন। কেন হঠাৎ করে বিএসএনএল-এর এই বিপুল জনপ্রিয়তা? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
সস্তায় পুষ্টিকর: BSNL-এর নতুন ধামাকা রিচার্জ প্ল্যান
বিএসএনএল এমন কিছু রিচার্জ প্ল্যান বাজারে রেখেছে, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ জিও এবং এয়ারটেলের। সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে হেভি ইন্টারনেট ইউজার সবার জন্যই রয়েছে দারুণ সব অফার।
- ১০৭ টাকার দুর্দান্ত প্ল্যান: যারা নিজেদের সিম শুধুমাত্র চালু রাখতে চান এবং টুকটাক কল করেন, তাদের জন্য এটি সেরা। এই প্ল্যানে ৩৫ দিনের ভ্যালিডিটি পাওয়া যায়। সাথে রয়েছে ২০০ মিনিট ফ্রি ভয়েস কলিং এবং ৩ জিবি ডেটা।
- ৩৯৭ টাকার লং ভ্যালিডিটি প্ল্যান: বারবার রিচার্জ করার ঝঞ্জাট থেকে মুক্তি পেতে চাইলে এটি আপনার জন্য। ৩৯৭ টাকায় পুরো ১৫০ দিনের ভ্যালিডিটি! প্রথম এক মাস আনলিমিটেড কলিং এবং রোজ ২ জিবি করে ডেটা পাওয়া যায়।
- ৫৯৯ টাকার সুপার প্ল্যান: যারা বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের জন্য এই প্ল্যানে রয়েছে প্রতিদিন ৩ জিবি ডেটা, আনলিমিটেড ভয়েস কলিং এবং প্রতিদিন ১০০টি ফ্রি এসএমএস। এর ভ্যালিডিটি পুরো ৮৪ দিন। জিও বা এয়ারটেলে এই সুবিধার জন্য আপনাকে প্রায় হাজার টাকা খরচ করতে হবে।
দেশজুড়ে BSNL 4G এবং 5G নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
গ্রাহকদের একটা বড় অভিযোগ ছিল বিএসএনএল-এর ইন্টারনেটের স্পিড নিয়ে। এবার সেই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান হতে চলেছে। ভারত সরকারের কড়া নির্দেশ এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে দেশজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ নতুন 4G টাওয়ার বসাচ্ছে BSNL।
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় সফলভাবে 4G পরিষেবা চালু হয়ে গেছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিএসএনএল তাদের 5G পরিষেবার টেস্টিং শুরু করবে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে, যা ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের একটি বড় সাফল্য।
কেন লাখ লাখ গ্রাহক রাতারাতি BSNL-এ পোর্ট করছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিনটি কারণের জন্য মানুষ এখন বিএসএনএল-মুখী হয়েছেন:
১. অতিরিক্ত খরচ থেকে মুক্তি: অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় BSNL-এর প্ল্যানগুলি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সস্তা।
২. লুক্কায়িত চার্জ নেই: প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ৫জি ফ্রি দেওয়ার নাম করে দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু বিএসএনএল খুব স্বচ্ছভাবে তাদের প্ল্যানগুলো সাজিয়েছে।
৩. আস্থা ও ভরসা: নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশনের খবর পাওয়ার পর সাধারণ মানুষ আবারও সরকারি সংস্থার ওপর ভরসা করতে শুরু করেছেন।
কীভাবে আপনার নম্বর BSNL-এ পোর্ট করবেন?
আপনি যদি জিও, এয়ারটেল বা ভি-এর গ্রাহক হয়ে থাকেন এবং আপনার বর্তমান নম্বরটি পরিবর্তন না করেই বিএসএনএল-এ আসতে চান, তবে পদ্ধতিটি খুবই সহজ:
- প্রথমে আপনার মোবাইলের মেসেজ বক্সে গিয়ে টাইপ করুন PORT <স্পেস> আপনার মোবাইল নম্বর এবং সেটি পাঠিয়ে দিন 1900 নম্বরে।
- এরপর আপনার কাছে একটি UPC (Unique Porting Code) আসবে।
- আপনার আধার কার্ড এবং সেই কোডটি নিয়ে নিকটবর্তী যেকোনো BSNL রিটেইলার বা কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে চলে যান।
- সামান্য কিছু ফর্মালিটিজ পূরণ করলেই কয়েকদিনের মধ্যে আপনার বর্তমান নম্বরটি BSNL-এ পোর্ট হয়ে যাবে।
উপসংহার:
টেলিকম বাজারে দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্যের পর জিও এবং এয়ারটেল যে ধাক্কা খেয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। BSNL যদি তাদের 4G এবং 5G নেটওয়ার্কের কাজ দ্রুত শেষ করতে পারে, তবে আগামী দিনে তারা আবারও ভারতের এক নম্বর টেলিকম কোম্পানি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপনিও কি দাম বাড়ার কারণে বিরক্ত হয়ে BSNL-এ পোর্ট করার কথা ভাবছেন? আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান।
