IPL 2026

ওয়াংখেড়েতে সঞ্জু স্যামসনের ধ্বংসলীলা! হার্দিকের মুম্বইয়ের সামনে পাহাড়প্রমাণ টার্গেট দিল চেন্নাই সুপার কিংস

নিজস্ব প্রতিবেদন:
আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’ মানেই পরতে পরতে রোমাঞ্চ আর স্নায়ুর লড়াই। আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026)-এর মহারণে ফের একবার সেই চেনা উত্তাপ ছড়াল চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians) ম্যাচে। তবে এবার চেন্নাইয়ের হয়ে তুরুপের তাস মহেন্দ্র সিং ধোনি বা রুতুরাজ গায়কোয়াড় নন, তিনি হলেন সঞ্জু স্যামসন! চলতি মরসুমে হলুদ জার্সিতে রীতিমতো ভেলকি দেখাচ্ছেন সঞ্জু। মুম্বইয়ের ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত শতরানের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানের বিশাল স্কোর খাঁড়া করল চেন্নাই। হার্দিক পাণ্ড্যর দলের সামনে এখন ২০৮ রানের কঠিন লক্ষ্যমাত্রা।

একনজরে চেন্নাই সুপার কিংসের ইনিংস:

  • মোট রান: ২০৭/৬ (২০ ওভার)
  • সর্বোচ্চ স্কোরার: সঞ্জু স্যামসন (৫৪ বলে অপরাজিত ১০১ রান)
  • পাওয়ার প্লে স্কোর: ৭৩/২
  • মুম্বইয়ের সেরা বোলার: আল্লা গজনফর (৪ ওভারে ২৫ রান, ২ উইকেট)

পাওয়ার প্লে-তেই আক্রমণাত্মক মেজাজ চেন্নাইয়ের

ওয়াংখেড়ের পিচ বরাবরই ব্যাটারদের জন্য স্বর্গরাজ্য। চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট জানত, এই ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে লড়াইয়ে থাকতে হলে অন্তত ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। শুরু থেকেই ঝোড়ো মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই ইনিংস বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে রুতুরাজকে প্যাভিলিয়নে ফেরান মুম্বইয়ের স্পিনার আল্লা গজনফর। আউট হওয়ার আগে ১৪ বলে ২২ রান করে দলের ভিত মজবুত করেন তিনি।

রুতুরাজ আউট হওয়ার পর রান তোলার গতি এতটুকুও কমতে দেননি সঞ্জু স্যামসন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বল থেকেই নিজের দাপট দেখাতে শুরু করেন তিনি। তাঁর সঙ্গী হন সরফরাজ খান। তবে সরফরাজও এদিন বড় রান পাননি (৮ বলে ১৪ রান)। দ্রুত দুই উইকেট পড়ে গেলেও চেন্নাইয়ের প্রথম তিন ব্যাটারের কাঁধে ভর করে পাওয়ার প্লে-তেই ৭৩ রান তুলে ফেলে সিএসকে।

সঞ্জু স্যামসনের ধামাকাদার শতরান: হলুদ জার্সিতে নতুন রূপ

চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে সঞ্জু স্যামসনের অন্তর্ভুক্তি যে মাস্টারস্ট্রোক ছিল, তা চলতি আইপিএলে বারবার প্রমাণ হচ্ছে। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরেও সঞ্জুর ব্যাটে রান তোলার গতি কমেনি। মাঠের চারদিকে চোখজুড়ানো সব শট খেলতে থাকেন তিনি। উল্টোদিকে শিবম দুবে অবশ্য এদিন ব্যর্থ হয়েছেন। মাত্র ৮ বলে ৫ রান করে গজনফরকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি।

দুবে ফিরলে সঞ্জুর সঙ্গী হন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। শুরু থেকেই হাত খুলতে থাকেন ব্রেভিস। এর মাঝেই নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেন সঞ্জু। তাঁদের দুজনের আক্রমণাত্মক পার্টনারশিপ দেখে মনে হচ্ছিল চেন্নাই হয়তো ২২০-২৩০ রানে পৌঁছে যাবে। কিন্তু ১১ বলে ২১ রান করে অশ্বনী কুমারের বলে আউট হন ব্রেভিস। এরপর তরুণ কার্তিক শর্মা ক্রিজে এসে ১৯ বলে ১৮ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দু’টি বিশাল ছক্কা।

তবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়েছিলেন সেই সঞ্জুই। সিঙ্গলস বা ডাবলসের দিকে না গিয়ে তিনি শেষলগ্নে শুধু বাউন্ডারি মারার ওপরই জোর দেন। মাত্র ৫৪ বলে চলতি আইপিএলে নিজের দ্বিতীয় শতরানটি তুলে নেন সঞ্জু। সব মিলিয়ে আইপিএল কেরিয়ারে এটি তাঁর পঞ্চম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি।

বুমরাহের লড়াই বনাম হার্দিকের ব্যর্থতা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং লাইনআপে এদিন একমাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। ডেথ ওভারে বল করতে এসে ১৭তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে কার্তিকের মূল্যবান উইকেটটি তুলে নেন তিনি। অন্যদিকে, স্পিনার আল্লা গজনফর ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।

কিন্তু দলের বাকি বোলাররা চেন্নাই ব্যাটারদের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করেন। সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। তিনি ওভার প্রতি প্রায় ১৯ রান করে খরচ করেছেন! তাঁর এই লাগামহীন বোলিং এবং অফ-ফর্ম মুম্বই সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে। শেষ দিকে ওভারটনের ৭ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংস চেন্নাইকে অনায়াসে ২০৭ রানে পৌঁছে দেয়।

মুম্বইয়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা

২০৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করা ওয়াংখেড়েতে খুব একটা অসম্ভব নয়, কারণ এখানে শিশিরের প্রভাব (Dew Factor) বড় ভূমিকা পালন করে। তবে মুম্বইয়ের বর্তমান ফর্ম এবং চেন্নাইয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কাজটা যে বেশ কঠিন হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। হার্দিকের দলের ব্যাটাররা কি পারবেন সঞ্জুর এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের জবাব দিতে? নাকি ঘরের মাঠেই মুখ থুবড়ে পড়বে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স? সেটা দেখার জন্যই টিভির পর্দায় চোখ রাখছেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top