Pm modi in Ganga

গঙ্গা নদীতে সাতসকালে নৌকাবিহার মোদীর! আপ্লুত মাঝিকে কত টাকা ভাড়া মেটালেন প্রধানমন্ত্রী? জানলে চমকে যাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদন (জাতীয় ডেস্ক):
বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা গোটা পশ্চিমবঙ্গে। ভোটের আবহে রাজনীতির পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অন্য রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের চরম ব্যস্ততা এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে শুক্রবার সাতসকালে সোজা হুগলি নদীর ঘাটে পৌঁছে গেলেন তিনি। নদীর পাড়ে প্রাতঃভ্রমণ থেকে শুরু করে নৌকাবিহার প্রধানমন্ত্রীর এই আচমকা গঙ্গা দর্শন ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আর এই সফরে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছেন এক সাধারণ মাঝি, যাঁকে প্রধানমন্ত্রী নৌকার ভাড়া হিসেবে এমন এক অঙ্কের টাকা দিয়েছেন, যা নিয়ে এখন সমাজমাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে।

সাতসকালের সারপ্রাইজ এবং প্রিন্সেপ ঘাট
শুক্রবার সকালে রাজভবনে রাত কাটানোর পর হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন তিনি গঙ্গার ঘাটে যাবেন। যেমন ভাবা, তেমন কাজ! সকাল ৭টা নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মাঝে তিনি পৌঁছে যান ম্যান ও ওয়ার জেটি বা প্রিন্সেপ ঘাটে। সেখানে তখন প্রাতঃভ্রমণকারীদের ভিড়। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের মাঝে এতো কাছ থেকে দেখে স্বভাবতই অবাক হয়ে যান সাধারণ মানুষ। তাঁদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ হাসিমুখে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদী। বার্তা দেন মিলেমিশে থাকার। এরপর তিনি নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য নৌকাবিহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে ঘাটে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল সাতটি নৌকা।

গৌরাঙ্গ মাঝির নৌকায় মোদী এবং ১০০০ টাকার চমক
প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে নৌকাটি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তার মাঝি ছিলেন ৭২ বছর বয়সী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। গত ১৭ বছর ধরে তিনি এই ঘাটে নৌকা চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আচমকা সফর সম্পর্কে গৌরাঙ্গবাবু জানান, “সকালবেলা হঠাৎ করে কিছু মানুষ এসে আমাদের নৌকা ভাড়া করেন। তখন ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার নৌকায় উঠবেন। তাঁকে দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।”

নৌকায় ওঠার পর গৌরাঙ্গবাবুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করেন। তাঁর নাম জিজ্ঞেস করেন। মাঝি জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হুগলি নদীর বুকে ঘুরে বেড়ান এবং নিজের ক্যামেরায় বিদ্যাসাগর সেতু ও হাওড়া ব্রিজের একাধিক ছবি তোলেন। নৌকাবিহার শেষে ঘাটে ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী যা করলেন, তা গৌরাঙ্গবাবু জীবনেও ভুলবেন না। মোদী তাঁকে কাছে ডেকে পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরেন এবং নৌকার ভাড়া হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন নগদ ১,০০০ টাকা! সাধারণত এক ঘণ্টার জন্য নৌকার ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হয়ে থাকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১,০০০ টাকা এবং একটি উষ্ণ আলিঙ্গন পেয়ে আপ্লুত গৌরাঙ্গ মাঝি। তিনি জানান, “জীবনেও ভাবিনি প্রধানমন্ত্রীর এতো কাছে যেতে পারব, আর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরবেন।”

সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট
নৌকাবিহারের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এই সফরের বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে গঙ্গার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। গঙ্গা যেন বাংলার আত্মার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গঙ্গার এই পবিত্র জলরাশি সমগ্র সভ্যতার চিরন্তন চেতনাকে বহন করে চলেছে। আজ সকালে হুগলি নদীর তীরে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর সুযোগ পেলাম, যা মা গঙ্গার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি দারুণ মুহূর্ত।” এর পাশাপাশি তিনি ওই পোস্টে মাঝি এবং প্রাতঃভ্রমণকারীদের সাথে কাটানো মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বাংলার উন্নয়নের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতির কথাও আরও একবার মনে করিয়ে দেন।

ভোটের আবহে এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই গঙ্গা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের প্রচারে এসে বাংলার মানুষের আবেগ এবং সংস্কৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করার এই চেষ্টা নিঃসন্দেহে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করছেন যে প্রথম দফার নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতে চলেছে, তখন অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসংযোগ কর্মসূচি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে।

উপসংহার:
রাজনীতির মারপ্যাঁচ, কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবং রাজনৈতিক তরজার বাইরে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই হুগলি নদীর বুকে নৌকাবিহার এবং এক সাধারণ মাঝির সাথে তাঁর এই আন্তরিক আলাপন প্রমাণ করে যে, ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তগুলোই অনেক সময় বড় বার্তা দিয়ে যায়। গৌরাঙ্গ মাঝির কাছে এই ১,০০০ টাকার নোটটি হয়তো আজীবন এক অমূল্য স্মৃতি হয়েই থেকে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top