নিজস্ব প্রতিবেদন (টেক ডেস্ক):
আপনিও কি ভারতী এয়ারটেলের প্রিপেইড গ্রাহক? যদি হ্যাঁ হয়, তবে আপনার জন্য রয়েছে একটি দুঃসংবাদ। গত কয়েক মাস ধরেই টেলিকম কোম্পানিগুলির লাগামছাড়া রিচার্জ বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ রীতিমতো তিতিবিরক্ত। অনেকেই মনে করেছিলেন যে আর হয়তো দাম বাড়বে না। কিন্তু সেই আশাতে জল ঢেলে এবার ফের নিজেদের গ্রাহকদের বিরাট ঝটকা দিল এয়ারটেল। কোম্পানির অন্যতম জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত ৮৪ দিনের একটি প্রিপেইড প্ল্যানের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু দাম বাড়ানোই নয়, এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকা একটি সস্তার প্ল্যানও সম্পূর্ণভাবে তুলে নিয়েছে এই বেসরকারি টেলিকম সংস্থা। যার ফলে এখন থেকে মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে।
বন্ধ হলো ৭৯৯ টাকার প্ল্যান, বাড়ল ৮৫৯ টাকার দাম
যারা বারবার রিচার্জ করার ঝঞ্জাট থেকে মুক্তি পেতে চান, তাদের কাছে ৮৪ দিনের ভ্যালিডিটি সম্পন্ন দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যানগুলি সবথেকে বেশি পছন্দের। এতদিন এয়ারটেলের ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার প্রিপেইড সেগমেন্টে মূলত দুটি জনপ্রিয় প্ল্যান ছিল। একটির দাম ছিল ৭৯৯ টাকা এবং অপরটির দাম ছিল ৮৫৯ টাকা। এই দুটি প্ল্যানেই ৮৪ দিনের ভ্যালিডিটি পাওয়া যেত। কিন্তু কোম্পানির নতুন নীতি অনুযায়ী, ৭৯৯ টাকার সস্তার প্ল্যানটি সম্পূর্ণভাবে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ৮৫৯ টাকার যে জনপ্রিয় প্ল্যানটি ছিল, তার দাম একলাফে ৪০ টাকা বাড়িয়ে ৮৯৯ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে, এখন থেকে এয়ারটেল ব্যবহারকারীদের ৮৪ দিনের ভ্যালিডিটি উপভোগ করতে হলে ন্যূনতম ৮৯৯ টাকা খরচ করতেই হবে, যা আগে অনেকটাই কম খরচে পাওয়া যেত।
কী কী সুবিধা মিলবে এই নতুন ৮৯৯ টাকার প্ল্যানে?
দামের দিক থেকে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেলেও, ৮৯৯ টাকার এই নতুন প্ল্যানে গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা বরাদ্দ রেখেছে এয়ারটেল। একনজরে দেখে নিন এই প্ল্যানের সমস্ত সুবিধা:
১. কলিং এবং ডেটা: পুরো ৮৪ দিনের জন্য দেশের যেকোনো নেটওয়ার্কে সম্পূর্ণ আনলিমিটেড ভয়েস কলিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, প্রতিদিন ১.৫ জিবি করে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ডেটা মিলবে।
২. এসএমএস এবং স্পিড: গ্রাহকরা প্রতিদিন ১০০টি করে ফ্রি এসএমএস পাঠানোর সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিদিনের ১.৫ জিবি ডেটা শেষ হয়ে গেলে ইন্টারনেটের গতি কমে ৬৪ কেবিপিএস হয়ে যাবে।
৩. বাড়তি সুবিধা বা অ্যাড-অন: এই প্ল্যানের সাথে বিনামূল্যে ১২ মাসের জন্য ‘অ্যাডোবি এক্সপ্রেস প্রিমিয়াম’ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর সাথে থাকছে স্প্যাম কল অ্যালার্ট এবং আনলিমিটেড ফ্রি হ্যালো টিউনস সেট করার সুবিধা।
সুবিধা কমল না বাড়ল? ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা
৮৫৯ টাকার পুরনো প্ল্যানে ক্যাশব্যাকের কিছু দারুণ অফার ছিল, যা রিচার্জ করার সময় গ্রাহকদের কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি দিত। কিন্তু দাম বাড়িয়ে ৮৯৯ টাকা করার পর সেই ক্যাশব্যাকের সুবিধাগুলো পুরোপুরিভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে যেমন রিচার্জের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে তেমনই পরোক্ষভাবে সুবিধাও কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই এয়ারটেলের সাধারণ প্রিপেইড গ্রাহকরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক গ্রাহকই এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ফাইভ-জি পরিষেবার জন্য টেলিকম কোম্পানিগুলো যে বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেছে, এখন সেই টাকা তুলতেই ইউজার প্রতি গড় আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এভাবে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
গ্রাহকদের কাছে বিকল্প কী?
এয়ারটেল এবং জিও-র মতো বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলির এই দাম বাড়ানোর খেলার মাঝে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় বিকল্প হয়ে দাঁড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা বিএসএনএল। বিএসএনএল এখনও অত্যন্ত সস্তায় তাদের ৮৪ দিনের প্ল্যান অফার করে চলেছে। অনেক গ্রাহকই তাই অতিরিক্ত খরচের হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের দীর্ঘদিনের নম্বর বিএসএনএল-এ পোর্ট করে নিচ্ছেন।
উপসংহার:
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম সেক্টরে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী দিনে রিচার্জের দাম কমার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এয়ারটেলের এই ৮৯৯ টাকার প্ল্যানটি হয়তো আপাতত কোম্পানির রাজস্ব বাড়াবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির কারণে তারা সাধারণ গ্রাহক হারাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপনি কি এয়ারটেলের এই নতুন দাম বৃদ্ধির পর অন্য কোনো নেটওয়ার্কে পোর্ট করার কথা ভাবছেন? আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের সাথে শেয়ার করুন।
