নিজস্ব প্রতিবেদন (জাতীয় ডেস্ক):
বর্তমান ভারতে আধার কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি দেশবাসীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে নতুন সিম কার্ড কেনা, পাসপোর্টের আবেদন বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া, সব কিছুতেই আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক সময়ই আমাদের কাজের সূত্রে বা বিয়ের পর বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়। আর বাসস্থান পরিবর্তন হলেই আধার কার্ডে ঠিকানা বদল করাটা জরুরি হয়ে পড়ে।
অনেকেই মনে করেন আধার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তন করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষ করে যদি নিজের নামে কোনো বৈধ ঠিকানার প্রমাণপত্র বা অ্যাড্রেস প্রুফ না থাকে, তবে অনেকেই আধার কেন্দ্রে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান করে দিয়েছে আধারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা ইউআইডিএআই। এখন থেকে নিজের নামে কোনো অ্যাড্রেস প্রুফ না থাকলেও খুব সহজেই আপনি আপনার আধার কার্ডের ঠিকানা বদল করতে পারবেন।
কীভাবে সম্ভব অ্যাড্রেস প্রুফ ছাড়া ঠিকানা বদল?
ইউআইডিএআই একটি বিশেষ পদ্ধতি চালু করেছে, যার নাম ‘হেড অফ ফ্যামিলি’ ভিত্তিক ঠিকানা আপডেট। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি আপনার পরিবারের প্রধান বা অন্য কোনো সদস্যের আধার কার্ড ব্যবহার করে নিজের আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন।
বিশেষ করে যে সমস্ত মহিলারা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন এবং তাদের আধার কার্ডে এখনও বাপের বাড়ির ঠিকানা দেওয়া রয়েছে, তাদের জন্য এই নিয়মটি অত্যন্ত সুবিধাজনক। কারণ, বিয়ের পর সঙ্গে সঙ্গে নিজের নামে নতুন ঠিকানার কোনো প্রমাণপত্র তৈরি করা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে ওই মহিলা তাঁর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যের আধার কার্ডের ঠিকানা নিজের আধার কার্ডে যোগ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, কাজের সূত্রে যারা অন্য শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন, তারাও এই নিয়মের সুবিধা নিতে পারবেন।
এই পদ্ধতিতে ঠিকানা বদল করার জন্য কী কী প্রয়োজন?
নিজের ঠিকানার প্রমাণপত্র না লাগলেও, আপনি যাঁর ঠিকানা ব্যবহার করছেন, তাঁর সাথে আপনার সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য একটি নথি লাগবে। সম্পর্ক প্রমাণের নথি হিসেবে আপনি রেশন কার্ড, ম্যারেজ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট বা জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করতে পারেন।
এমনকি যদি আপনার কাছে সম্পর্ক প্রমাণ করার মতো কোনো উপযুক্ত নথি না থাকে, তাহলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে ইউআইডিএআই-এর নির্দিষ্ট ফরম্যাটে পরিবারের প্রধানকে একটি ‘সেলফ ডিক্লেয়ারেশন’ বা স্ব-ঘোষণাপত্র পূরণ করে সই করে দিতে হবে। সেটি আপলোড করলেও কাজ হয়ে যাবে।
বাড়িতে বসে অনলাইনে ঠিকানা আপডেট করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি:
আধার কেন্দ্রে লাইনে না দাঁড়িয়ে আপনি নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকেই এই কাজ করতে পারেন। ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ইউআইডিএআই-এর অফিশিয়াল পোর্টালে যান অথবা আধার অ্যাপটি খুলুন।
২. আপনার আধার নম্বর এবং রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে লগ-ইন করুন।
৩. হোম স্ক্রিনে সার্ভিসেস অপশনে গিয়ে অ্যাড্রেস আপডেট ট্যাবে ক্লিক করুন।
৪. এরপর হেড অফ ফ্যামিলি বেসড অ্যাড্রেস আপডেট অপশনটি নির্বাচন করুন।
৫. এবার আপনি পরিবারের যে সদস্যের ঠিকানা ব্যবহার করতে চাইছেন, তাঁর আধার নম্বরটি নির্ভুলভাবে টাইপ করুন।
৬. ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে ওই ব্যক্তির সাথে আপনার সম্পর্ক কী, তা সিলেক্ট করুন।
৭. এরপর সম্পর্ক প্রমাণের জন্য ম্যারেজ সার্টিফিকেট বা রেশন কার্ডের মতো কোনো একটি ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করুন অথবা সেলফ ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম আপলোড করুন।
৮. সবশেষে, ঠিকানা আপডেটের জন্য নির্ধারিত ফি অনলাইনে পেমেন্ট করুন।
৯. পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি সার্ভিস রিকোয়েস্ট নম্বর পাবেন। এই নম্বরটি যত্ন করে লিখে রাখুন।
শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ:
আপনার কাজ শেষ হওয়ার পর, পরিবারের যে সদস্যের আধার নম্বর আপনি ব্যবহার করেছেন, তাঁর মোবাইল নম্বরে একটি মেসেজ যাবে। ওই মেসেজে একটি লিঙ্ক থাকবে। ৩০ দিনের মধ্যে পরিবারের ওই সদস্যকে আধার পোর্টালে লগ-ইন করে রিকোয়েস্ট অপশনে গিয়ে আপনার ঠিকানা পরিবর্তনের এই আবেদনটি অ্যাপ্রুভ বা অনুমোদন করতে হবে।
পরিবারের প্রধান রিকোয়েস্ট অ্যাপ্রুভ করার কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার আধার কার্ডে নতুন ঠিকানা আপডেট হয়ে যাবে। এরপর আপনি খুব সহজেই অনলাইনে নতুন ঠিকানাযুক্ত ই-আধার ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
উপসংহার:
সরকারের এই পদ্ধতিটি নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের জীবনে অনেক বড় একটি স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী। তাই আর দেরি না করে, যদি আপনারও ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকে, তবে আজই নিজের মোবাইল থেকে এই সহজ পদ্ধতিতে আধার আপডেট করে নিন।
