বীরভূম

প্রথম দফাতেই রক্তাক্ত বীরভূম! লাভপুরে বিজেপির এজেন্টের মাথা ফাটাল দুষ্কৃতীরা, প্রার্থীর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগে তুঙ্গে উত্তেজনা

এক নজরে (Highlights):

  • ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই ব্যাপক অশান্তি বীরভূমের লাভপুরে।
  • বুথ দখলের খবর পেয়ে পরিদর্শনে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল।
  • ইটের আঘাতে মাথা ফাটল এজেন্টের, ভাঙচুর করা হল গাড়ি, ভর্তি সিউড়ি হাসপাতালে।
  • বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার ছেলে দেবরূপ ওঝাকে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য।
  • অভিযোগের তির শাসকদল তৃণমূলের দিকে, যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঘাসফুল শিবির।

মূল প্রতিবেদন:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি সত্ত্বেও এড়ানো গেল না রক্তপাত। প্রথম দফাতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বীরভূম জেলার লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রার্থীর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল লাভপুরে?

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং বুথ দখলের অভিযোগ আসছিল। সেই খবর পেয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যান লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রার্থীর ছেলে দেবরূপ ওঝা-সহ আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মী।

অভিযোগ, বুথ পরিদর্শন করে ফেরার পথে প্রায় ১০০ মিটারের মধ্যে তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে একদল দুষ্কৃতী। বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা তাঁদের গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রার্থীর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ

এই হামলার ঘটনার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিজেপি প্রার্থীর ছেলে দেবরূপ ওঝাকে কেন্দ্র করে। বিজেপির অভিযোগ, হামলার সময় দুষ্কৃতীরা প্রার্থীর ছেলেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার বা অপহরণের চেষ্টা করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাভপুর জুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। যদিও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

রাজনৈতিক তরজা ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

এই নক্কারজনক হামলার জন্য সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে বিজেপি। আক্রান্ত এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল হাসপাতাল থেকে জানান, “আমি একজন নির্বাচন এজেন্ট। বুথ দখলের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে আমাকে রাস্তায় ঘিরে ধরা হয়। চারদিক থেকে আক্রমণ করে গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয় এবং আমাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূলের লোকেরাই এই হামলা চালিয়েছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বিজেপির এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল অথবা নির্বাচনে সহানুভূতি কুড়ানোর জন্য পরিকল্পিত নাটক।

কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

লাভপুরের এই ঘটনার খবর পেয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু বীরভূম নয়, প্রথম দফার ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জেও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মুর্শিদাবাদের নওদা ও ডোমকলেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে।

পরিশেষ:
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু প্রথম দফার ভোটেই বীরভূম-সহ একাধিক জেলায় যেভাবে রক্ত ঝরল এবং বোমাবাজির ঘটনা ঘটল, তা সাধারণ ভোটারদের মনে যথেষ্ট আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, এই অশান্তি রুখতে কমিশন আগামী দফাগুলোতে আরও কী কী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top