নিজস্ব প্রতিবেদন (স্পোর্টস ডেস্ক):
আইপিএল ২০২৬-এর শুরুটা কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর জন্য একেবারেই আশানুরূপ হয়নি। পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানিতে থেকে প্লে-অফে ওঠার লড়াই কার্যত কঠিন করে ফেলেছে অজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বাধীন নাইট শিবির। তবে গত ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে তারা। আর আজ রবিবার, ২৬ এপ্রিল লখনউয়ের ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একানা স্টেডিয়ামে লখনউ সুপার জায়ান্টস-এর বিরুদ্ধে নামার আগে কেকেআর শিবিরে এল সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। নাইটদের ডেথ ওভারের বোলিংয়ের দুর্দশা কাটাতে আজই প্রথমবার পার্পল জার্সিতে অভিষেক হতে চলেছে শ্রীলঙ্কার তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানার। ১৮ কোটি টাকায় কেনা এই ‘বেবি মালিঙ্গা’-র জন্য নাইট সমর্থকরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই চাতকের মতো অপেক্ষা করছিলেন।
চোট সারিয়ে অবশেষে ফিট ১৮ কোটির তারকা
গত মেগা নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস পাথিরানাকে রিলিজ করে দেওয়ার পর, কেকেআর তাঁকে ১৮ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কে দলে টানে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার হয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলার সময় তিনি মারাত্মক কাফ মাসলের চোটে ভোগেন। এই চোটের কারণেই আইপিএলের শুরুর দিকের ম্যাচগুলি খেলতে পারেননি তিনি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের কড়া নজরদারিতে দীর্ঘ রিহ্যাবে থাকার পর অবশেষে ফিটনেস টেস্টে পাশ করেন পাথিরানা এবং নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি পেয়ে গত ১৯ এপ্রিল কেকেআর শিবিরে যোগ দেন। তবে তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায়নি নাইট ম্যানেজমেন্ট। গত এক সপ্তাহ ধরে বোলিং কোচ টিম সাউদির কড়া তত্ত্বাবধানে নেটে ক্রমাগত নিখুঁত ইয়র্কার অনুশীলন করেছেন তিনি। আজ তাঁকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা প্রায় একশো শতাংশ।
বাদ পড়ছেন কে? কার জায়গায় খেলবেন পাথিরানা?
আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম একাদশে সর্বাধিক চারজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো যায়। কেকেআর-এর বর্তমান একাদশে সুনীল নারিন, ক্যামেরন গ্রিন এবং রভম্যান পাওয়েলের জায়গা প্রায় পাকা। ফলে পাথিরানাকে খেলাতে হলে কোনো একজন বিদেশিকে বসাতে হবে। খবর অনুযায়ী, কিউয়ি ওপেনার টিম সেইফার্টকে আজকের ম্যাচে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। চলতি মরশুমে ওপেন করতে নেমে সেইফার্ট নিজের নামের প্রতি একেবারেই সুবিচার করতে পারেননি। তাঁর জায়গায় তরুণ অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে দিয়ে ওপেন করাতে পারে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট এবং বোলিং বিভাগকে নিশ্ছিদ্র করতে পাথিরানাকে সরাসরি দলে ঢোকানো হবে।
পাথিরানা এলে কেকেআর বোলিং কতটা ভয়ঙ্কর হবে?
চলতি মরশুমে কেকেআর-এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ডেথ ওভারের বোলিং। শুরুর দিকে বোলাররা উইকেট পেলেও, ইনিংসের শেষ দিকে বিপক্ষ দল প্রচুর রান তুলে নিচ্ছে। পাথিরানার সেই পুরোনো স্লিঙ্গিং অ্যাকশন এবং ১৪০ থেকে ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ধেয়ে আসা নিখুঁত ইয়র্কার লখনউয়ের ব্যাটারদের জন্য বড় চিন্তার কারণ হতে চলেছে। বিশেষ করে লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ এবং নিকোলাস পুরানের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদের আটকাতে পাথিরানাই হতে পারেন রাহানের সেরা অস্ত্র। স্পিন বিভাগে সুনীল নারিন এবং গত ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ বরুণ চক্রবর্তী দারুণ ছন্দে রয়েছেন। পাশাপাশি পেসার কার্তিক ত্যাগী এবং বৈভব আরোরাও ভালো বল করছেন। এদের সাথে পাথিরানা জুড়ে গেলে নাইটদের বোলিং আক্রমণ সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পাবে।
লখনউয়ের বিরুদ্ধে ডু-অর-ডাই পরিস্থিতি
পয়েন্ট টেবিলের যা পরিস্থিতি, তাতে প্লে-অফে যাওয়ার সামান্য আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজ জিততেই হবে কলকাতাকে। অন্যদিকে লখনউ সুপার জায়ান্টসও নিজেদের ঘরের মাঠে পরপর চারটি ম্যাচ হেরে মারাত্মক চাপে রয়েছে। মিচেল মার্শ, এইডেন মার্করামের মতো তাদের বিদেশি তারকারা সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছেন না। একানা স্টেডিয়ামের মন্থর পিচ সাধারণত স্পিনার এবং পেস-বৈচিত্র্য আছে এমন বোলারদের সাহায্য করে। সেই দিক থেকে বিচার করলে পাথিরানার স্লোয়ার এবং ইয়র্কার আজ লখনউয়ের ব্যাটারদের কোমর ভেঙে দিতে পারে।
উপসংহার:
নাইট সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ লখনউয়ের বিরুদ্ধে মাথিশা পাথিরানা মাঠে নামলে, তা নিঃসন্দেহে কেকেআর-এর আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। গত ম্যাচে রিঙ্কু সিংয়ের ফর্মে ফেরা এবং স্পিনারদের দাপট নাইটদের অক্সিজেন জুগিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইপিএল ২০২২-এ ধোনির সিএসকে-র হয়ে যেমন আগুনে স্পেল করেছিলেন, পার্পল জার্সিতেও ‘বেবি মালিঙ্গা’ সেই ম্যাজিক দেখাতে পারেন কি না।
